নূর এক দৃষ্টিতে সৌন্দর্যের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে আর চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। সৌন্দর্যের মুখের দিকে তাকিয়ে কেমন নেশা ধরে যাচ্ছে নূরের। লোকটার থেকে চোখ ফেরানো মুশকিল। দিন দিন এই মুখটার প্রতি এই লোকটার প্রতি মারাত্মক ভাবে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে তা নূর ভালো করেই বুঝতে পারছে। সেই আসক্তি থেকে নূর কিছুতেই বের হতে পারছে না অথবা চাইছে না বের হতে।মনে মনে চায় এই নেশা কখনো না কাটুক কখনো না। অনেক তো হলো আর কতো দূরে সরে থাকবে? এই লোকটার সাথেই তো সারাজীবন থাকতে হবে তাকে।তাহলে কেন দূরে সরে থাকা? আজ খুব ভালো করেই নূর উপলব্ধি করতে পারছে মনের ঘরে জায়গা করে নিয়েছে সুন্দর মানুষ টা। নূর এতোটাই আলতো হাতে চুল টেনে দিচ্ছে মনে হচ্ছে সৌন্দর্যের চুলগুলো বুঝি ব্যথা পাবে। সৌন্দর্য নড়েচড়ে বলে,, পরাণ কি করছো,জোরে টানো এভাবে কেউ মাথা মাসাজ করে? বলেই সৌন্দর্য নূরের পেটে মুখ গুঁজে কোমড় জরিয়ে ধরে। সৌন্দর্যের এরূপ ছোঁয়ায় নূরের শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে, গলা শুকিয়ে কাঠ মনে হচ্ছে এখনি পানি না খেলে ভিতর মরুভূমি হয়ে যাবে। সৌন্দর্য নূরকে শক্ত করে ধরে ঘুমিয়ে যায়। নূর স্তব্ধ হয়ে বসে রয় নড়াচড়া করার শক্তি ও পাচ্ছে না যেনো সে। অনেক টা সময় পর নূর বুঝতে পারে সৌন্দর্য ঘুমিয়ে গেছে। হাতের বাঁধন শিথিল হয়ে এসেছে। নূর আস্তে করে সৌন্দর্যের থেকে সরে আসে। টেবিলের উপর থেকে রাখা পানির জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে ঢকঢক করে পুরো গ্লাসের পানি শেষ করে। নিজেকে শান্ত করে সৌন্দর্যের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকায়। আলতো পায়ে এগিয়ে গিয়ে আবার পাশে বসে। চুলের ভিতর হাত ঢুকিয়ে একটু ঝুঁকে আসে সৌন্দর্যের দিকে।
.jpg)
"এই সুন্দর মানুষ আপনি কি জাদু জানেন? কি করেছেন বলুনতো আমাকে? আপনি ছাড়া আমার কিছুই ভালো লাগে না। এই যে আপনার পাশে বসে আছি কি শান্তি লাগছে জানেন? মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ এখন আমি। আপনার কথা শোনার জন্য আমার কান চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে। চোখ গুলো এই সুন্দর মুখটা দেখার জন্য তৃষ্ণার্থ হয়ে থাকে। আপনি যখন ঐ সময় আমাকে ইগনোর করে কথা না বলে চলে আসছিলেন তখন আমি বুঝলাম আপনি আমার জীবনে কি। সকল নিয়ম ভেঙে এই নূর আপনার কাছে ছুটে এসেছে। কি ছিলাম আমি আর কি হয়ে গেলাম বলুনতো? আপনার মুখে পরাণ ডাক শুনতে আমার কতো ভালো লাগে জানেন আপনি? উহুু জানেন না একদম জানেন না। জানলে হয়তো সারাক্ষণ আমাকে পরাণ ডাকতেন। আচ্ছা আপনার জন্য যা ফিল করি সেটা কি ভালোবাসা সুন্দর মানুষ?
সৌন্দর্যের থেকে কোনো উত্তর আসে না, সে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে।
নূর আবার বলে,,ভালোবাসা কি আমি জানি না তবে আপনি জন্য করা এসব পাগলামো গুলো যদি ভালোবাসা হয় তাহলে বলে নূর চুপ হয়ে যায়। একটা শুকনো ঢুক গিলে ফিসফিস করে বলে,, তাহলে আপনার পরাণ আপনাকে অনেক অনেক ভালোবাসে।"
এসব কথা হয়তো আপনি জাগ্রত অবস্থায় থাকতে বলার সাহস পেতাম না জীবনে ও তাই আপনার ঘুমিয়ে থাকার সুযোগ নিলাম। আপনার পরাণের বাড়িতে চলে আসার সাহস থাকলেও আপনাকে সরাসরি এসব বলার এতো সাহস নেই বুঝলেন?
অনেক টা সময় সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে নূর।এতো কাছ থেকে লোকটা কে দেখার সুযোগ কিছুতেই হাত ছাড়া করতে চায় না। এরমধ্যে নূরের কাঁধের ব্যাগে রাখা ফোনটা ভাইব্রেট হতে থাকে। বুঝতে পারলো যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। উঠে দাঁড়ায় চলে যাওয়ার জন্য। কয়েক কদম গিয়ে ও ফিরে আসে। সৌন্দর্যের কপালে টুপ করে চুমু খেয়ে ঝরের বেগে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সৌন্দর্য মুচকি হেসে পাশ ফিরে আরাম করে শোয়।
বিরবির করে বলে,,
❝তোমার ওষ্ঠের ভালোবাসায় থাকব নেশাগ্রস্ত।
যেখানে মৃত্যু নেই
থাকবে অন্তহীন প্রাণ। তোমার ঠোঁটের আঘাতে আমার মৃত্যু হোক। ❞
দুইতলা থেকে আলতো পায়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে নেমে আসে নূর।ভয়ে আছে কেউ এখন দেখে ফেললে খুব লজ্জায় পরতে হবে আর তাছাড়া কিইবা বলবে যখন জিজ্ঞেস করবে এখানে আসার কারণ। ফাতিহা স্কুলে এটা বলতেও পারবে না ফাতিহা কে দেখতে এসেছে। পা টিপে টিপে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে পারলে যেনো বাঁচে। রান্না ঘরের দিকে চোখ যেতেই তখনকার মহিলাটা কে দেখতে পায়।
উফফ এই মহিলা দেখার আগেই এখান থেকে কেটে পরতে হবে নয়তো কি গন্ডগোল লাগায় কে জানে। মহিলাটার দিকে এক ঝলক তাকিয়ে তারাতাড়ি সদর দরজা দিয়ে বের হয়ে যায় নূর।
এতক্ষন সোফায় বসে থাকা সৌন্দর্যের দাদি মুখের উপর থেকে খবরের কাগজ সরিয়ে শব্দ করে হেসে দেয়। বেচারি সোফায় ভালো করে খেয়ালই করে নি। করলে হয়তো দেখতে পেতো কেউ একজন খবরের কাগজের আড়ালে তাকিয়ে তার কর্মকান্ড সব দেখেছে।
সৌন্দর্যের দাদি হাসতে হাসতে বলে,, এই বয়সটা আমিও পার করে এসেছি। আজ নাতবউ সেই আমার কাহিনী রিপিট করলো।তারাতাড়ি এই বাড়িতে একেবারের জন্য নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে দেখছি।নাহ আর দেরি করা যাবে না একটা অনুষ্ঠান করে তারাতাড়ি দুইটাকে এক করে দিতে হবে। দাদি হিসেবে আমার একটা দায়িত্ব আছে না।
সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই নূরের বিয়ের আলোচনা চলছে। তারা বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নূরকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চায় তাদের বাড়ি। প্রথমে বলেছিল অনার্স শেষ হলে উঠিয়ে নিবে কিন্তু সৌন্দর্যের দাদি উনার নাতবউ কে এখনই নিয়ে যেতে চায়। একদম দেরি করতে চায় না। নূরের বাবা আর সৌন্দর্যের বড় আব্বু রাজি হতে না চাইলে ইমোশনাল ব্লে'ক মেইল করা শুরু করে। শরীর তেমন ভালো না নাত বউ কে নিজের বাড়িতে দেখে যেতে চায় ইত্যাদি ইত্যাদি। অগত্যা কি করার উনার কাছে সকলকেই হার মানতে হলো। বিয়ের ডেইট ফেলা হয় সপ্তাহ খানেক পর। সকলেই তোরজোড় শুরু করে দেয়। একটা বিয়ে মানে অনেক দায়িত্ব। তূর আর ফাতিহা সেই খুশি। এসবের মধ্যে নূর সবচেয়ে বেশি মিস করছে ইসরাত কে। যার সবচেয়ে বেশি আনন্দে থাকার কথা পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখার কথা সে কিনা নিজেকে একলা করে রেখেছে। নূরের সাথে ও তেমন একটা কথা বলে না আর না বাড়ি থেকে খুব একটা বের হয়। অথচ নূরের বিয়ে নিয়ে আগে থেকে কতো প্লেন করে রেখেছে। বিয়ের এক সপ্তাহ আগেই নাকি নূরদের বাড়িতে আসবে সব নিজের হাতে করবে। নূর ইসরাতের কথা ভেবে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। কে যানে বিয়েতে মেয়েটা আসবে কিনা।নূরের কেন জানি মনে হয় বিয়েতে ও আসবে না ইসরাত।
নিজের রুমে বসে বসে এসবই ভাবছিল নূর।ফোন বসার রুমে ফেলে এসেছে। তূর এসে ডাকতে থাকে কল এসেছে বলে।নূর বলে দিয়ে যাওয়ার জন্য। তূর এনে ফোন দিয়ে যায় নূর কে। নূর ফোন নিয়ে দেখে ইসরাতের মা কল দিয়েছেন। কিসের জন্য দিলেন বুঝতে পারলো না হয়তো ইসরাতের এমন হয়ে যাওয়া নিয়েই কথা বলবে।
" হ্যালো আসসালামু আলাইকুম আন্টি। কেমন আছেন?"
"ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমি ভালো আছি মা তুমি কেমন আছো? "
-- নূর আসলে তোমার সাথে একটা কথা ছিলো।
-- হ্যা আন্টি বলুন কি কথা।
-- আসলে হয়েছে কি আজ এক জায়গা থেকে ইসরাত কে দেখতে আসার কথা ছিলো। মানে দিন তারিখ ও ঠিক করার কথা ছিলো কিন্তু উনারা চাচ্ছে আজই আকদ টা সেরে ফেলতে,দেরি করতে চাইছে না। আর আমাদের ও কোনো আপত্তি নেই সবকিছু দেখে শুনে নিয়েছি। আজ রাতে আকদ পড়ানো হবে। তুমি এখনই এসে পরো মা। সবতো হুট করে হয়ে গেলো তাই তোমাকে বলতে পারি নি আগে । তুমি বিকেলের মাঝে এসে পরো।
--ইসরাতের মায়ের কথায় নূর বেশ অবাক হয়। কি বলছে এসব হুট করে বিয়ে। আর ইসরাত ও কি রাজি? তালহা স্যারের সাথে কি ঐদিন সব ঠিক হয়নি? এজন্য কি ইসরাত এমন হয়ে গেছে? নাকি বিয়ের কথা চলছে এজন্য। আশ্চর্য মেয়েটা তালহা স্যার কে বলেনি কেন বিয়ের কথা। অনেক অনেক প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে। নূরের এসব ভাবনার মাঝেই ইসরাতের মা বলে,,,, আসবে তো মা?
নূর কি করবে বা বলবে কিছু মাথায় ঢুকছে না। যেই মেয়েটা তালহা স্যার বলতে পা'গল সে চুপচাপ অন্য জায়গায় বিয়ে করে নিবে? এটা নূর বিশ্বাস করতে পারছে না। ইসরাতের সাথে তারাতাড়ি কথা বলতে হবে। হাতে সময় বেশি নাই যা করার এখনই করতে হবে। আসবো আন্টি বলে ফোন রাখে নূর।
ইসরাতের ফোনে কল দিতে থাকে কিন্তু মেয়েটা রিসিভ করে না। তালহা কে কল দেয় তালহার ও একই ব্যাপার ফোন তুলছে না। নূরের খুব রাগ হতে থাকে। সারাজীবনের ব্যাপার আর এরা কিনা ফোন ই তুলছে না। উপায় না পেয়ে সৌন্দর্য কে কল করে। সৌন্দর্য সব শুনে বলে আমি দেখছি বিষয় টা তুমি ইসরাতের কাছে যাও।
নূর আর দেরি করে না তারাতাড়ি তৈরি হয়ে ইসরাতের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বাড়িতে ভালোভাবেই আয়োজন চলছে। কম সময় হলেও মোটামোটি সবকিছুই করে ফেলেছে ইসরাতের বাবা মা। হাত চালিয়ে দ্রুত কাজ করছে যেনো অতিথিদের কোনো দিক দিয়ে কোনো অসুবিধা না হয়। ইসরাত সে তো সেই যে নিজেকে ঘর বন্দি করেছে আর বের হওয়ার নাম নেই। বিয়ের তোরজোরে তারা এটাও খেয়াল করলো না হুট করে একটা প্রানবন্ত মেয়ে কেন এমন চুপ হয়ে গেলো।তারা তো ভালো সম্বন্ধ নিয়ে পরে আছে। এটা হাত ছাড়া হয়ে গেলে যেনো তারা আর পাত্র পক্ষ পাবে না। দেশে যেনো একটাই ছেলে আছে। ইসরাত বিয়ে নিয়ে একটা টু শব্দ ও মুখ দিয়ে উচ্চারণ করেনি।
নূর দেরি করে নি।সৌন্দর্যের সাথে কথা বলেই বেরিয়ে পরেছে ইসরাতদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।দেখা যাক লাস্ট মোমেন্টে কিছু করতে পারে কি না মেয়েটার জন্য। কেন যে ইসরাত এমন হয়ে গেলো নূর কিছুই বুঝতে পারছে না। তালহা স্যার মনে হয় ইসরাত কে রিজেক্ট করে দিয়েছে। এজন্য মেয়েটা এমন চুপ হয়ে গেছে। আর বিয়েতেও বাঁধা দেয় নি এটাই মনে হলো নূরের। তালহার প্রতি একটু মনক্ষুন্ন ও হলো তার। এজন্য বোধয় বলে কাউকে এতো ভালো বাসতে নেই।বিয়েতো একদিন না একদিন করতে হবেই তাহলে ইসরাত কে করলে কি এমন হতো? এমনও না যে তালহা স্যার কোথাও কমিটেড আছে আর না ইসরাত দেখতে খারাপ। ইসরাত মেয়েটা যথেষ্ট সুন্দরী, পড়াশোনায় ভালো আর ফ্যামিলি ব্যকগ্রাউন্ড ও ভালো তাহলে কি সমস্যা বুঝলো না। নূর হাজার ধরনের ভাবনা ভাবতে ভাবতে ইসরাতদের বাড়ির সামনে এসে পৌঁছায়। রিকশা থেকে নেমে সৌন্দর্য কে একটা মেসেজ দিয়ে জানায় পৌঁছে গেছে। ভিতরের পরিস্থিতি গিয়ে দেখছে। বাড়িতে ঢুকতেই দেখতে পেলো সকলেই ব্যস্ত এটা ওটা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে। নূরের মা হাতে বড় এক থাল নিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পায় নূর কে। নূর কে দেখে বেশ খুশি হয়ে যায়।
--নূর মা তুই এসেছিস? আমি জানতাম আসবি।তুই আমার কথা ফেলতেই পারবি না। যা যা ভিতরের রুমে যা।ইসরাত ঐখানেই বসে আছে। মেয়েটার আজ এতো বড় একটা দিন তাও কেমন হয়ে বসে আছে দেখনা মা। মানলাম বিয়ে বলে মন খারাপ তাই বলে এমন ঘর বন্দি হয়ে বসে থাকবে বলতো? তুই একটু গিয়ে বোঝা।আর আজকে কিন্তু তুই ই সাজিয়ে দিবি ঠিক আছে? যা আমি খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি দুইজনে খেয়ে নিস। কথাগুলো বলে ইসরাতের মা থামে।
-- নূর হাসার চেষ্টা করে বলে,, ঠিক আছে আন্টি আমি যাই বলেই নূর ইসরাতের রুমের দিকে যায়।
ইসরাত দুই হাটু ভাজ করে বসে আছে নূর রুমে ঢুকেই দরজা আঁটকে দেয়। দরজার শব্দ শুনেও ইসরাত দেখার চেষ্টা ও করে নি কে এসেছে।
" এসবের মানে কি? নাটক শুরু করেছিস? জীবন নিয়ে খেলা করছিস?"
"ওহ নূর তুই এসেছিস? আমি বেশ খুশি হয়েছি।আমিতো ভেবেছিলাম আসবিই না। আজ আমার বিয়ে তুই কিন্তু আমায় সাজিয়ে দিবি ঠিক আছে? "
" নাটক বন্ধ কর ইসু।এটা মশকরা করার সময় না কি হয়েছে আমায় বল।"
" হয়নি তো এখনো হবে আমার বিয়ে বলেই খিলখিলিয়ে হেসে উঠে ইসরাত।"
"তুই কিন্তু আমার হাতে মা'র খাবি এবার ইসরাত।সবকিছুর একটা লিমিট আছে। নিজের জীবন টা নিয়ে কেন এভাবে খেলছিস?"
ইসরাত বিরবির করে বলে,, আমি আর কি খেলবোরে নূর জীবন ই আমাকে নিয়ে সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম খেলা খেলে দিয়েছে।
আমায় বল না দোস্ত। দেখ আমি সবকিছু ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।এই বিয়ে নিয়ে কি তোকে বাড়ি থেকে ফোর্স করা হয়েছে বা অন্য কোনো সমস্যা হয়েছে? কি হয়েছে আমায় বল ইসু বল। তালহা স্যার কে বলেছিলি?
" কি বলবো আমি ঐ লোকটা কে? লোকটা তো আমার না অন্য কারো। বলেই ইসরাত মাথায় হাত দিয়ে বসে ডুকরে কেঁদে উঠে। "
নূর কিছু সময় ইসরাতের দিকে তাকিয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলে,,ম-মা-মানে? কি-কি বলছিস কি ইসু তুই? আমি কিছু বুঝতে পারছি না তুই প্লিজ আমাকে সব খুলে বল।
ইসরাত কাদতে কাদতে বলে কিছু বলার নাই। আমার ভালোবাসা অন্য কারো অন্য কাউকে ভালোবাসে সে। ইসরাত নূর কে সব খুলে বলে। কিন্তু এটা বলে না যে ঐ মেয়ে টা আর কেউ নয় তূর।
তুই কি সিউর ইসু? এমনও হতে পারে তুই ভুল দেখেছিস।
আমি কোনো ভুল দেখিনি নূর।(ইসরাত)
স্যার কি তোকে নিজের মুখে বলেছে এসব?
" নাহ্ উনার নিজের মুখে বলতে হবে কেন? আমার এতটুকু বোঝার ক্ষমতা আছে। "
"সব সময় আমাদের চোখের দেখা ও কিন্তু সত্যি হয় না ইসরাত। মাঝে মাঝে আমরা ভুল কিছু ও দেখি।"
ইসরাত তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। এসব কথা বাদ দে নূর আমার বিয়েতে এসেছিস ইনজয় কর আর আমাকে সাজিয়ে দে।সুন্দর করে সাজাবি সবাই যেনো দেখে প্রসংসা করে বুঝলি?
--' হু সময় আছে তাই তারাতাড়ি সাজানো শুরু কর যেনো সুন্দর করে সাজাতে পারিস
ধীরে সুস্থে।'
নূর অনেক বলেও কিছু করতে পারলো না। মেয়ে টা ঠিক করে নিয়েছে মনে হয় নূরের কথা শুনবে না। অগত্যা নিজের বিরুদ্ধে গিয়ে ইসরাতের কথা মতো সাজাতে থাকে। মনে মনে একটা ইচ্ছে পোষণ হচ্ছে ঠাটিয়ে একটা চড় মে'রে মাথার ভূত নামানোর।
নূর ইসরাত কে সাজাচ্ছে আর বারবার ফোনের
দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু নূর কে বার বার নিরাশ হতে হচ্ছে সৌন্দর্য না কল দিচ্ছে আর না কোনো মেসেজ। অনেক সময় নিয়ে নূর সাজানো শেষ করে। ইসরাত আয়নার কাছে গিয়ে ঘুরে ঘুরে নিজেকে দেখছে। অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছিস নূর কিন্তু চোখের নিচটা কেমন যেনো দেখা যাচ্ছে বুঝলি?
নূর দাঁতে দাঁত চেপে বলে,, কারণ তুই কান্না করে নিজের চোখ ফুলিয়ে ফেলেছিস তাই।
ইসরাত কিছু সময়ের জন্য চুপ হয়ে যায়। তারপর নিজেকে সামলে বলে ছার না ইয়ার।আজ আমার আকদ অথচ দেখ তারাহুরোতে কাউকেই বলতে পারলাম না। এরমধ্যে বাইরে গাড়ির হর্ণের আওয়াজ কানে আসে।
ইসরাত উত্তেজিত হয়ে বলে,,নূর দেখ ওরা মনে হয় এসে পরেছে। দেখ সময়ের আগেই এসে পরেছে। অন্যদের মতো লেট করে নি।এই দেখ না আমার সব ঠিক আছে? আচ্ছা আমি যাই ওদের কে সালাম দিয়ে আসি বুঝলি?
নূরকে কিছু বলতেও দিলো না, বেরিয়ে যায় ইসরাত। এটা মাথায় আসেনি যে বরপক্ষ না ডাকার আগ পর্যন্ত ওদের সামনে যেতে নেই। নূর ও ইসরাত কে ডাকতে ডাকতে ওর পিছন পিছন যায়।
বসার ঘরে এসে দেখে সব কেমন শান্ত। ইসু তুই চল বলেই ইসরাতের কাঁধে হাত দিয়ে সামনে তাকিয়ে নূর নিজেও চুপ হয়ে যায়।
ইসরাতের মা এগিয়ে আসে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে চিনতে পারলেও ওপর জনকে চিনতে পারছেন না তিনি।
"তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না বাবা"
সৌন্দর্য মুচকি হেসে কিছু বলতে নিবে তার আগেই নূর বলে,,আন্টি উনি আমার হাসবেন্ড তোমাদের জামাই।
ওহ আচ্ছা আচ্ছা বসো তোমরা বাবা আমার কি সৌভাগ্য নিজের মেয়ের স্যার,বর সবাই এসেছে। আমি অনেক খুশি হয়েছি তোমরা আসায়।এই কে কোথায় আসিস ওদের বসতে দিয়ে খাবার দে।
আন্টি এতো ব্যস্ত হতে হবে না আপনাকে। আর আমরা এতো সহজে যাচ্ছি না তাই না তালহা? ব্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে সৌন্দর্য। তালহা কি বলবে বুঝতে পারে না। এমনিতেও তার সব তালগোল পাকিয়ে আছে। একদিকে বাড়ির পরিস্থিতি আর অন্য দিকে ইসরাতের বিয়ে। সব ঝামেলা কি এক সাথেই আসতে হলো? জীবন মরনের প্রশ্ন।
আসলে হয়েছে কি আন্টি ইসরাতের সাথে তালহার খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা আছে। ওদের একটু আলাদা কথা বলার সুযোগ দেওয়া যাবে কি? প্লিজ আন্টি না করবেন না খুব দরকারী কথা । বেশি সময় লাগবে না প্লিজ আন্টি প্লিজ প্লিজ। সৌন্দর্য ইসরাতের মা কে বলে।
ইসরাতের মা কিছুই বুঝতে পারছে না। কিসের জরুরি কথা যে আলাদা করে আজ এমন একটা দিন বলতে হবে। এক নজর ইসরাতের দিকে তাকায় মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুকে মোচড় দেয়।বিয়ের তোরজোরে মেয়ের মত বা মেয়ের দিকে তাকানোর ও সময় পাননি তিনি। কেন জানি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ওদের আলাদা করে অনুমতি দিয়ে দেন তিনি। সকলেই যেনো স্বস্থির নিশ্বাস নেয়। এর মধ্যে ইসরাত কিছু বলতে নিলে নূর দাঁতে দাঁত চেপে বলে,, একদম বারাবাড়ি করবিনা চুপচাপ যা।এইদিকে সৌন্দর্য ও তালহার কানের কাছে গিয়ে বলে,,সব মিটমাট করে নে এইদিক টা আমি দেখে নিচ্ছি। এইদিক টা আমি সামলাতে পারলেও ঐ দিক টা তোকে সামলাতে হবে। বলেই চোখের ইশারায় যেতে বলে। দুইজনই যায়। ইসরাতের মা গিয়ে সোফায় বসে পরে। কেন জানি সব কিছু মনে হচ্ছে খারাপ হতে যাচ্ছিল। ভিতরটা কেমন কেমন করছে। সৌন্দর্য আর নূর দুইজন ইসরাতের মায়ের দুই পাশে বসে সব খুলে বলতে থাকে।
তালহা ইসরাতের রুমের দিকে ঢুকেই দরজা আঁটকে দেয়।
ইসরাত তালহার দিকে তাকিয়ে বলে,, একটু পরে আমার বিয়ে আর আপনি অন্যজনের বউকে নিয়ে দরজা আঁটকে কি এমন গোপন কথা বলবেন শুনি?
খবরদার ঐ মুখ দিয়ে আরেকবার অন্য জনকে বিয়ের কথা বললে তোমাকে মে'রে ফেলবো বলে দিলাম।
সৌন্দর্য ইসরাতের মা কে সবকিছু খুলে বলে। ইসরাতের মা একটা টু শব্দ ও বের করে না।চুপচাপ সব শুনে সৌন্দর্যের মুখ থেকে। নূর শুধু ইসরাতের মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে উনার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। কিন্তু উনি কোনো রেসপন্স করছেন না। সৌন্দর্য সবকিছু খুলে বলে চুপ হয়ে যায়। নূরের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় কি হতে চলেছে জিজ্ঞেস করে। নূর মাথা নাড়িয়ে জানায় সে কিছুই বুঝতে পারছে না। নূরের অবস্থা বুঝতে পেরে সৌন্দর্য চোখের ইশারায় আবার রিলেক্স হতে বলে। সৌন্দর্য রিলেক্স হতে বললেও নূর কিছুতেই তা হতে পারছে না। একেই তো ইসরাতের মা কোনো কিছু বলছে না হ্যা অথবা না আর অন্য দিকে তালহা স্যার ইসরাত কে মানাতে বা সবকিছু বোঝাতে পারছে কি না কে জানে।
******
বললেই হলো মে'রে ফেলবো তাই না? আপনি আমাকে মা'রার কে শুনি? খালি একবার মা'রার জন্য হাত উঠিয়ে দেখুন না।ঐ হাত যদি আমি কেটে কুকুর কে না খাওয়াতে পারি তাহলে আমার নাম ইসরাত না।বড় আসছে আমাকে মে'রে ফেলার হুমকি দিতে হুহ।
ইসরাতের এহেম কথায় তালহা শুকনো মুখে ও বিষম সামলে। কি ডেঞ্জেরাস মেয়ে তুমি ইসু।এভাবে কেউ কথা বলে?
বেশ করেছি বলেছি আরো বলবো। এই আপনি দাওয়াত ছাড়া আমার বাড়িতে কি করছেন শুনি? আমিতো বিয়েতে বলেছি সবার আগে দাওয়াত দিবো আর এখন তো আমার আকদ দাওয়াত ছাড়া এসে হাজির হয়েছেন? সে যাই হোক আমরা আবার অতিথিদের না খাইয়ে বাড়ি থেকে যেতে দেই না। পেট ভরে খেয়ে যাবেন অবশ্যই।
ইসরাতের আজকে আকদ কথা টা শুনেই হুট করে তালহার মাথাটা গরম হয়ে যায়। এই মেয়ে নাকি তার জন্য পা'গল দিওয়ানা তাহলে কি করে ধেই ধেই করে নাচতে নাচতে বিয়েতে রাজি হয়ে গেলো।
তালহা রাগী স্বরে বলে,, বিয়ে না বিয়ে মাই ফুট বলেই ইসরাতের হাত শক্ত করে ধরে নিজের মুখের কাছে ইসরাতের মুখ নিয়ে আসে। ইসরাত ব্যাথায় আহ্ করে উঠে কিন্তু তালহা এতে পাত্তা দেয় না।
এই এই তোর সাহস কি করে হলো বিয়েতে রাজি হওয়ার? এতো সেজেগুজে ওদের সামনে যেতে চাস তুই? এই তোর ভালোবাসা? এতো পা'গলামি ভালোবাসা সব শেষ? এতোদিন কি আবেগের বসে নাটক করেছিলি আমার সাথে? বলেই তালহা ইসরাতের শরীর থেকে টেনে গহনা খুলে ফেলতে থাকে। ইসরাত জোর করে তালহার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বলে,,ভালোবাসা? ভালোবাসার আপনি কি বুঝবেন মি.তালহা। এতো ভালোবেসে আপনার মন পেয়েছি? এতো পাগলামির কি এক বিন্দু ও দাম দিয়েছেন আপনি? প্রতিনিয়ত আমি ভালোবাসার দাবি নিয়ে আপনার কাছে গিয়েছি আর আপনি হাসি ঠাট্টা বানিয়েছেন আমার সেই ভালোবাসা।
আমার চোখের সামনে অন্যজনকে ভালোবেসেছেন। সেই ভালোবাসা আপনাদের পিরিতি দেখার জন্য আমাকে আবার ডেকেছেন।কোথায় গেলো আপনার ভালোবাসার মানুষ?
তালহা ইসরাতের শেষের কথা বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে মানে?
মানে বুঝতে পারছেন না আপনি? আমার মুখ থেকে শুনতে চান? তাহলে শুনুন আপনার আর তূরের ভালোবাসার সম্পর্ক।
কথাটা বলতে দেরি কিন্তু ইসরাতের গালে তালহার চর মারতে দেরি হয় না।
সাট আপ জাস্ট সাট আপ। কি বলছো তোমার কোনো আইডিয়া আছে? ওহ এবার বুঝতে পারছি এই কয়দিন তুমি কেনো এত নাটক করেছো।চোখের সামনে এখন সব ক্লিয়ার হয়ে গেছে আমার।
ইসরাত অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। তালহা এবার সব বলতে থাকে।
ঐদিন সকালে তোমাকে কেন ডেকেছি জানো? তোমার ভালোবাসা কে গ্রহন করতে আর এটাও বলতে যে আমিও তোমার জন্য কিছু ফিল করি।কিন্তু তুমি কি করলে? গিয়েও আমার সাথে দেখা না করে চলে এসেছো।
চলে আসবো না তো কি করবো শুনি? আপনি তূরের হাতে যত্ন সহকারে ভালোবাসা পরিয়ে দিচ্ছেন তা দেখবো?
প্লিজ ইসরাত নিজেকে আর নিচে নামিও না ঐ বাচ্চা মেয়েটা কে নিয়ে। তূর তো আমার ছোট্ট বোনের মতো। ঐদিন ওর ক্লাস শেষে যাওয়ার সময় আমার সাথে দেখা হয়। তাও ওর কাছে ভাংতি ছিলো না লোকটার কাছে ও ভাংতি ছিলো না এজন্য কিনতে পারছিলো না। আমার সাথে দেখা হয়ে যায় তাই আমি কিনে দেই। তারপর বলছিল ভাইয়া যখন ছোট বোনকে কিনে দিলেন তখন হাতে পরিয়ে ও দেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার কি জানো? আমি পরিয়ে দিচ্ছি সময় তূর আমাকে বলতেছিলো ভাইয়া এখন ইসু আপু যদি এই দৃশ্য দেখতো তাহলে ভাবেন কি হতো। হয় হার্ট অ্যাটাক করতো নয়তো আমাকেই মে'রে ফেলতো। মেয়েটার কথা সত্যি করে তুমি দেখলেও আর আমাকে ভুল ও বুঝলে।আর ঐদিন রেস্টুরেন্টে তূর আমাকে এজন্য ফোন দিয়েছিল সৌন্দর্য আর নূরের সম্পর্কে বলতে।ওদের মধ্যে সব ঠিক করে দিতে যেনো সাহায্য করি। আর তুমি? তালহা আর কিছু বলে না কোমরে হাত দিয়ে চুপ করে থাকে।
সব কথা শুনে ইসরাত থতমত খেয়ে যায়।কি করবে বা বলবে বুঝতে পারে না। অনেকটা সময় পার হয় কেউ কিছু বলে না। চুপচাপ দুইজন দাঁড়িয়ে থাকে। এরমধ্যে ইসরাত তালহা কে কিছু না বলে দরজা খুলে বের হয়ে যায়। তালহা পিছন থেকে ডাকলেও শুনে না।
বসার ঘরে এসে দেখে সব শান্ত। বাড়ির লোক নূর আর সৌন্দর্য ছাড়া আর কেউ নেই। এতো সময় পুরো বাড়ি ভরা লোক থাকলেও এখন নেই। বিয়ে বিয়ে আমেজ টা আর নেই মনে হচ্ছে। ইসরাতের মা সোফায় একই ভাবে বসে আছে। পাত্র পক্ষকে সৌন্দর্য আর ইসরাতের বাবা সব বলে মাফ চেয়ে বিদায় করেছে। ইসরাতের মা সব দেখেও চুপ ছিলো।
ইসরাত মায়ের পাশে এসে বসে বলে,,মা সবাই কোথায়? মেহমানরা কি আসে নি? যেই লোক আমার বিয়ের কথা শুনে ও চুপ ছিলো সৌন্দর্য স্যার না বললে লোকটা আসতো না। মা ওদের আসতে বলো আমি ঐ ছেলেকেই বিয়ে করবো তালহা স্যার কে না বলেই তালহার দিকে তাকায়।
ইসরাতের মা হুট করেই উঠে গালে চ'ড় লাগিয়ে দেয়। দ্বিতীয় বারের মতো একই গালে চ'ড় খেয়ে থমকে যায় ইসরাত।
এই মেয়ে কে যতদ্রুত সম্ভব এই বাড়ি থেকে বিদায় করো এই ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে । বলেই উনি চলে যান।
নূর ইসরাতের কাঁধে হাত দিয়ে বলে,,অনেক ঝামেলা করেছিস আর করিস না।আর তালহা স্যারের মা খুবই অসুস্থ তাই তোর বিয়ের খবর শুনেও আসতে পারেনি। এখন উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে সোজা তোর কাছে এসেছে। ইসরাত এবার গালে হাত দিয়ে নূরের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ হয়ে যায়।
ইসরাতের বাবা এবার এগিয়ে এসে তালহা কে বলে,, ওর ফ্যামিলি নিয়ে যেনো এসে বিয়ের কথা বার্তা বলে।এরমধ্যে সৌন্দর্য একটা প্রস্তাব রাখে সৌন্দর্য আর নূরের সাথে যেনো তালহা আর ইসরাতের ও যেনো একই দিনে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তালহা সম্মতি জানালে ইসরাতের বাবা আর অমত করে না। সবশেষে নূর অনেক খুশি হয় দুই বান্ধবীর এক সাথে বিয়ে। ফাইনালি ইসরাত তার ভালোবাসার মানুষকে পেতে যাচ্ছে। ইসরাত মুখ টা গোমড়া করে দাঁড়িয়ে থাকলেও মনে মনে লুঙ্গি ডান্স দিচ্ছে।
************
নির্ধারিত তারিখে দুই কাপলের বিয়ে সম্পন্ন হয় খুব ভালো ভাবে। এরমধ্যে আরো দুইজনের মধ্যে ও প্রেম ভালোবাসা হয়ে যায়। ইসরাত কে যখন শুভকামনা জানাতে আসে একটা ছেলে গলাটা কেমন চেনা চেনা লাগে তাকিয়েও চিনতে পারে না। পরে মনে হলো রেস্টুরেন্টের ঐ ছেলেটা। ছেলেটা আর কেউ নয় তালহার চাচাতো ভাই। নূরের বাবা কে ওই সাহায্য করেছিলো। আর বসার ঘরে ফ্যামিলি ফটোতে তূরের পিক দেখে মন হারিয়ে ছিলো।হাসপাতালে নূরের মাকে ও সাহায্য করেছিলো। তূরের প্রেমে সে হাবুডুবু খাচ্ছে।
***********:***
ইসরাত নূরের সংসার জীবন খুব ভালো কাটছে। কিন্তু ইসরাতের দুষ্টুমি কমেনি একটুও। সে তার কাজ করে যাচ্ছে। তালহার জীবন তেজপাতা বানিয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে তালহার কাঁদতে ইচ্ছে করে ইসরাতের দুষ্টুমি দেখে । এই মেয়ে টা কিছুদিন পর মা হবে অথচ সে বাচ্চামো করে বেড়ায়।
ইসরাত নূরের লাস্ট ইয়ার এক্সাম কিছুদিন পর। তাই ওদের নিয়মিত ক্লাস করতে হয়। ইসরাতের বেবি হবে তাই ওকে একটু সাবধানে চলাচল করতে হয়।তালহা তবুও ভয়ে থাকে এই মেয়ে যেই কেয়ারলেস কখন কি অঘটন ঘটিয়ে ফেলে,তাই নিজেই ভার্সিটিতে পৌঁছে দিয়ে যায়। নূরকে বলে যায় খেয়াল রাখার জন্য।
দ্বিতীয় ক্লাস শেষ হবার পরে তালহা এসে কি জরুরি কাজ আছে বলে ইসরাত কে নিয়ে যায়। নূর রয়ে যায়। সৌন্দর্যের ক্লাস এখন।ক্লাস চলাকালীন হুট করেই জড়ো হাওয়া বইতে থাকে সাথে বিদ্যুৎ চমকানো।চারিদিকে কেমন অন্ধকার হয়ে আছে। নূরের খুব ভয় করতে লাগলো। বা'জ পরলে এমনিতেই ভয় পায় সে।এতো এতো মানুষ হওয়া সত্যে ও ভয় পাচ্ছে সে। সৌন্দর্য সবই লক্ষ করে। নূরের বেঞ্চের পাশে এসে দাঁড়ায়। সকলকে হইচই ও ভয় পেতে বারণ করে। নূরের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় বোঝায় ভয় পেও না আমিতো আছি। নূর সেই চোখের ইশারায় ভরসা খুঁজে পায়।সৌন্দর্য পাশে এসে দাঁড়ানোতে অর্ধেক ভয় এমনিতেই কেটে গেছে তার। এই লোকটা তার ভরসার স্বস্তির আশ্রয়স্থল।
নূর ক্লাস শেষ করে পার্কিং প্লেসে এসে দেখে সৌন্দর্য আগে থেকেই তারজন্য গাড়িতে অপেক্ষা করছে।এখন আকাশ পুরোই পরিষ্কার। দেখে মনেই হচ্ছে না একটু আগে অমন ঝড় উঠেছে। সৌন্দর্য গাড়ির দরজা খুলে দিলে নূর ঢুকেই সৌন্দর্য কে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে। সৌন্দর্য মুচকি হেসে বলে,,খুব ভয় পেয়েছিলে পরাণ?
নূর মাথা নাড়িয়ে জানায় হ্যা।তারপর বলে,,কিন্তু আমার সুন্দর মানুষ পাশে এসে দাঁড়ানোয় সব ভয় বাতাসের সাথে উড়ে চলে গেছে। সৌন্দর্য মুচকি হেসে নূরের কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায়।
এরমধ্যে পিছনের গাড়ির দরজা খুলার আর গলা খেকা্রি দেওয়ার শব্দ কানে আসে।
উহুম উহুম আমরাও আছি কিন্তু বলেই তালহা আর ইসরাত গাড়িতে ঢুকে। নূর সৌন্দর্য কে লজ্জা পেয়ে ছাড়িয়ে নেয়।পিছনে ফিরে বলে তোরা?
ফাতিহা তালহার কোল থেকে বলে মাম্মা আমিও আছি হিহিহি। নূর ফাতিহা কে কোলে নিয়ে নেয়।গালে চুমু খেয়ে বলে,,মাম্মাটাহ আমার।
কোথায় যাওয়ার প্লেন করেছিস তালহা?(সৌন্দর্য)
আপাতত রেস্টুরেন্টে চল জমিয়ে খাওয়া দাওয়া করি তারপর লং ড্রাইভে যাবো। তারপর সকলেই গল্পে মত্ত হয়।ইসরাত কথায় কথায় বলে,,নূর ফাতিহা তার ভাই বোন চায় কবে আনার ব্যবস্থা করবি শুনি?
নূর বলে,,এখন না ইসু আগে ফাতিহা আরেকটু বড় হোক,,নয়তো ওর যত্নে না চাইতেও অনিয়ম হবে আমি চাই না আমার মেয়েটা এমন পরিস্থিতিতে পরুক।তাছাড়া এক্সাম শেষ করে ছোট খাটো একটা জব করতে চাই পরে ভাববো এসব বুঝলি?
কেউ আর কথা বাড়ায় না সবাই জানে নূর ফাতিহা কে নিয়ে কতোটা পজেসিভ।বলেও লাভ নেই সকলেই বুঝিয়েছে এমনকি সৌন্দর্য কিন্তু সে এখন রাজি না।
পাঁচজন মিলে একটা রেস্টুরেন্টে এসে থামে। ভিতরে ঢুকে বসে পছন্দ মতো খাবার অর্ডার করে। তালহা ইসরাত কে নিয়ে ব্যস্ত,কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা,কিছু লাগবে কিনা। এইদিকে সৌন্দর্য নূরের সামনে চলে আসা চুল ঠিক করে দিচ্ছে। নূর আর ফাতিহা কি বলে যেনো খিলখিলিয়ে হাসছে।
পাশের টেবিলের বসে থাকা অনেকেই এই দুই দম্পতি ও ছোট বাচ্চাটার দিকে তাকাচ্ছে। কি সুন্দর লাগছে দেখতে। ওদের দেখে মনে মনে বলছে,,ভালোবাসা সুন্দর খুব সুন্দর, পূর্ণতা পেলে ও যত্ন নিলে।
যারা এতোটা সময় ধরে পাশে ছিলেন তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ।
গল্প: পরাণ দিয়ে ছুঁই (Season_2)
#পর্ব_১০ (শেষ পর্ব )
লেখনীতে: ঝর্ণা ইসলাম
আসসালামু আলাইকুম। সকলে রেসপন্স করবেন।
0 Comments